কলকাতা খবর (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হামলা): কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ছাত্র-ছাত্রীকে সিয়ালদহ ব্রিজের কাছে (students attacked in Sealdah) হিন্দি ভাষাভাষী কয়েকজন হকার আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হকাররা প্রথমে ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করে তারা কোথা থেকে এসেছে। শিক্ষার্থীরা বাংলায় উত্তর দিতেই তাদের বাংলাদেশি বলে কটূক্তি করা হয় এবং এরপরই শুরু হয় মারধর। হামলাকারীদের হাতে ছিল হকি স্টিক, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র। আতঙ্কে আশেপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয় এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।(Kolkata University attack)

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা ঘিরে উত্তেজনা
এই ঘটনার পরেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিজের শহরে, নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য যদি ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলাদেশি বলে অপমান সহ্য করতে হয়, তবে এটি গোটা বাঙালি সমাজের প্রতি অবমাননা। ছাত্র সংগঠনগুলো আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কলকাতা সবসময় বহু ভাষার মিলনস্থল। এখানে কাউকে ভাষার কারণে হেনস্থা করা বা আক্রমণ করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হামলা -সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। টুইটার ও ফেসবুকে #StandWithBengaliStudents হ্যাশট্যাগ দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই লিখেছেন, কলকাতা যদি এভাবে ভাষাগত বৈষম্যের শিকার হয়, তবে তা বাংলার ঐতিহ্যের জন্য লজ্জাজনক। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ?(Bengali students harassment)
বাংলা ভাষার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ সংগ্রাম। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল মাতৃভাষার অধিকার। আজ স্বাধীন ভারতের মাটিতে যদি আবার বাংলায় কথা বলার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের হামলার শিকার হতে হয়, তবে সেটি সেই ইতিহাসের প্রতি অসম্মান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা যদি বারবার ঘটে, তবে তা কেবল ছাত্র সমাজেই নয়, পুরো সমাজে বিভাজন তৈরি করবে।
এই ঘটনার জেরে শহর জুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, কলকাতার মতো সাংস্কৃতিক রাজধানীতে ভাষার কারণে বৈষম্য হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বহুভাষিক সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা আরও জোরদার করা জরুরি। নাগরিক সমাজ, প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলেই এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
কলকাতা সবসময় সংস্কৃতি, সহনশীলতা আর বহুত্ববাদের প্রতীক। সেই শহরে যদি ছাত্র-ছাত্রীদের শুধু ভাষার কারণে আক্রান্ত হতে হয়, তবে এটি অশনি সংকেত। সমাজ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো প্রতিটি ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মান রক্ষা করা। অন্যথায় আগামী প্রজন্ম একটি বিভাজিত সমাজ উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে।