SSC Recruitment Case কলকাতা: West Bengal SSC Scam-এর মধ্যে নতুন মোড় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) গতকাল প্রকাশ করেছে অযোগ্য প্রার্থীদের একটি তালিকা, যাতে ১৮০৪ জনের নাম রয়েছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এই তালিকায় আরও দুজনের নাম যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজন হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিধায়ক হামিদুল রহমানের কন্যা রোশনারা বেগম। এই ঘটনা SSC Recruitment Scam-এর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। চোপড়ার MLA হামিদুল রহমানের মেয়ে রোশনারা বেগম চোপড়ার কালিগঞ্জ হাইস্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু এখন তাঁর নাম অযোগ্যদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

SSC Recruitment Scam
West Bengal School Recruitment Scandal-এর এই কাণ্ড শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে, যখন অভিযোগ উঠেছিল যে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ এবং অনিয়মের মাধ্যমে অনেক অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে CBI এবং ED-এর তদন্ত চলছে, যাতে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এই কেলেঙ্কারিতে ইতিমধ্যে অনেক TMC MLA-এর নাম জড়িয়েছে, যেমন পারেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারী, যাঁকে আদালত চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এবং বেতন ফেরত দিতে বলেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SSC-কে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। গতকাল প্রকাশিত তালিকায় ১৮০৪ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে অনেক TMC নেতা-কর্মীর আত্মীয়-স্বজনের নাম আছে। উদাহরণস্বরূপ, তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূর নামও এতে যুক্ত। কিন্তু রাতে হঠাৎ করে তালিকায় রোশনারা বেগম এবং সঞ্চিতা দাসের নাম যুক্ত হয়েছে, যা অনেকের মনে সন্দেহ জাগিয়েছে। কেন রাতে এই পরিবর্তন? এটা কি প্রক্রিয়ার অংশ, না কোনও গোপনীয়তা লুকানোর চেষ্টা?
হামিদুল রহমান, যিনি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিধানসভা থেকে TMC MLA, এই খবর শুনে বলেছেন যে বিষয়টি আদালতে চলছে এবং তাঁর জামাই দেখুক। এই প্রতিক্রিয়া লজিক্যাল, কারণ আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি সরাসরি জড়িত নন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন তালিকা প্রকাশের পর রাতে নাম যুক্ত হল? SSC-এর ওয়েবসাইটে প্রথমে ১৮০৪ জনের তালিকা ছিল, পরে ১৮০৬ জনে পরিণত হয়েছে। এটা দেখায় যে তদন্ত এখনও চলছে এবং নতুন তথ্য আসছে। তবে এতে স্বচ্ছতার অভাব দেখা যাচ্ছে, যা SSC Recruitment Case-এর বিশ্বাসযোগ্যতা কমায়।
অনেকের মতে, এই কাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। TMC-এর অনেক নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় দলের ইমেজ খারাপ হচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে, তদন্ত স্বাধীনভাবে চলছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলা হচ্ছে। যদি রোশনারা বেগম সত্যিই অযোগ্য হন, তাহলে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং বেতন ফেরতের সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন অঙ্কিতা অধিকারীর ক্ষেত্রে হয়েছে।
এই West Bengal Teacher Recruitment Scam-এর ফলে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এখন তালিকা প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু অনেকে দাবি করছেন যে সব অযোগ্যের নাম এতে নেই। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেছেন, তালিকায় সব নাম নেই এবং আবার সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। এটা লজিক্যাল, কারণ তদন্ত সম্পূর্ণ না হলে আরও নাম আসতে পারে।
Read More Story : weblipsbangla.in
যোগ্য প্রার্থীদের জন্য এটা আশার আলো, কিন্তু প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অনেকের জীবন থমকে আছে। সরকারের উচিত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা।
আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের পুরনো প্রতিবেদন দেখুন: SSC Scam-এর সম্পূর্ণ টাইমলাইন। বাইরের সোর্স: SSC অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।