Anmol Bishnoi Arrested: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ ভারতীয় নাগরিকের প্রত্যর্পণ, যার মধ্যে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই Anmol Bishnoi এবং পাঞ্জাবের দুই অপরাধী। বাবা সিদ্দিক হত্যা, সলমান খানের বাড়িতে গুলি চালানোর মতো ঘটনায় জড়িত। এনআইএ গ্রেপ্তার করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিশেষ ফ্লাইটে ২০০ ভারতীয় নাগরিককে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার Anmol Bishnoi এবং পাঞ্জাব পুলিশের খুঁজে পাওয়া দুই অপরাধী। এই ফ্লাইটটি মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) মার্কিন মাটি ছেড়ে বুধবার সকাল ১০টায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এর মধ্যে ১৯৭ জন অবৈধ অভিবাসী, যখন অনমলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ভারতে গুরুতর অপরাধের মামলা চলছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) অনমলকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রস্তুত, যা ভারতের অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা ভারত-আমেরিকা মধ্যে অভিবাসন এবং অপরাধী প্রত্যর্পণের সহযোগিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। অনমল বিষ্ণোই, যিনি বাবা সিদ্দিক হত্যা এবং সলমান খানের বাড়িতে গুলি চালানোর মতো সনস্নেহী অপরাধের প্রধান সন্দেহভাজন, গত ১.৫ বছর ধরে মার্কিন আইনের জালে আটকে ছিলেন। তার প্রত্যর্পণ ট্রাম্প যুগের অভিবাসন নিয়মের ফলে ত্বরান্বিত হয়েছে, যা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

ফ্লাইটে কারা ছিলেন?
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসি) এই প্রত্যর্পণ অভিযান পরিচালনা করেছে। ফ্লাইটটি লুইজিয়ানা থেকে উড়ে এসেছে, যেখানে Anmol Bishnoi-কে আটক করা হয়েছিল। সূত্র জানাচ্ছে, Anmol Bishnoi সঙ্গে পাঞ্জাব পুলিশের খুঁজে পাওয়া দুই অপরাধীও ছিলেন, যাদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এরা পাঞ্জাবে একাধিক হত্যা এবং চাঁদাবাজির মামলায় জড়িত। বাকি ১৯৭ জন অবৈধ অভিবাসী, যাদের মধ্যে অধিকাংশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মার্কিন সীমান্ত অতিক্রম করেছিল।
দিল্লি পুলিশ এবং এনআইএ বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে। অনমলকে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মুম্বাই পুলিশও তার জন্য দুটি আলাদা এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব পাঠিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এনআইএ-কে প্রথম অগ্রাধিকার দেবে বলে জানা গেছে।
Anmol Bishnoi কে?
অনমল বিষ্ণোই, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই, পাঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র সরবরাহ এবং সংগঠিত অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। ২০২২ সালের এনআইএ-র দুটি চার্জশিটে তার নাম উল্লেখ আছে, এবং ২০২৪ সালের একটি চার্জশিটে লরেন্সসহ তার বিরুদ্ধে সামাজিক নেতা, চলচ্চিত্র তারকা এবং ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো ১২ অক্টোবর, ২০২৪-এ মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকের হত্যা। অনমলকে এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হয়, যিনি বিদেশ থেকে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে আক্রমণকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইভাবে, ২৯ মে, ২০২২-এ গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যায় তার ভূমিকা সন্দেহের অতীত। এছাড়া, ২০২৪ সালের এপ্রিলে সলমান খানের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনায় তার কণ্ঠস্বরের রেকর্ডিং এবং চ্যাট লগ পাওয়া গেছে।
অনমল ২০২২ সালের এপ্রিলে ভুয়া পাসপোর্ট (নাম: ভানু প্রতাপ) নিয়ে নেপাল হয়ে দুবাই, কেনিয়া ঘুরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। গত বছর ক্যালিফর্নিয়ায় আটক হয়ে গতকাল লুইজিয়ানা থেকে প্রত্যর্পিত হন। এনআইএ তার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
পাঞ্জাবের দুই অপরাধী: গোপনীয়তার পর্দা
পাঞ্জাব পুলিশের খুঁজে পাওয়া এই দুই অপরাধীর পরিচয় এখনও গোপন রাখা হয়েছে, কিন্তু সূত্র জানাচ্ছে, তারা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং-এর সঙ্গে যুক্ত এবং পাঞ্জাবে একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলায় ফরার। পাঞ্জাব পুলিশ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের এক্সট্রাডিশনের জন্য কাজ করেছে। এই প্রত্যর্পণ পাঞ্জাবের অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একটি বড় সাফল্য, যা মার্কিন সীমান্ত অতিক্রম করে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল।
ট্রাম্প যুগের নতুন নিয়ম
অনমলের প্রত্যর্পণ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়মের ফলে সম্ভব হয়েছে, যা বাইডেন যুগের তুলনায় অনেক কঠোর। এই নিয়মগুলো অভিবাসন বা আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর তাৎক্ষণিক আটক, একাধিক আবেদন নিষিদ্ধ এবং শুনানি এড়ানোর সুযোগ বন্ধ করে। ফলে, ১০ বছরের পরিবর্তে ১৮ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হয়। Anmol Bishnoi আশ্রয় চেয়েছিলেন, কিন্তু এই নিয়মের কারণে প্রত্যর্পিত হন।
মুম্বাই পুলিশ এবং এনআইএ মার্কিন এফবিআই-এর সঙ্গে ডিএনএ এবং কণ্ঠস্বরের নমুনা শেয়ার করে তাকে শনাক্ত করেছে। বাবা সিদ্দিকের ছেলে জিশান সিদ্দিক ডিএইচএস-এর ভিকটিম ইনফরমেশন অ্যান্ড নোটিফিকেশন সিস্টেম (ভাইন) এর মাধ্যমে ইমেইল পেয়েছেন: “এই ইমেইলটি জানাচ্ছে যে অ্যানমল বিষ্ণোইকে ফেডারেল সরকার ১৮ নভেম্বর, ২০২৫-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
জিশান সিদ্দিক বলেছেন, “আমি ইমেইল পেয়েছি যে Anmol Bishnoi-কে মার্কিন থেকে সরানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, সে কি ভারতে আসছে? কেন্দ্রকে আমি বারবার লিখেছি, দয়া করে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুন।” তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের কাছে নিরাপত্তার বিষয়ে চিঠি লিখেছেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, “অনমলের প্রত্যর্পণ ভারতের অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় জয়। এনআইএ তার গ্যাং-সংযুক্ত আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক হ্যান্ডেল করবে।” মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের এক সূত্র জানিয়েছে, “আমরা তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় জড়িত, কিন্তু এনআইএ প্রথম নেবে।”
অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক আইপিএস অফিসার আর.পি. সিংহ বলেছেন (সূত্রভিত্তিক), “এই প্রত্যর্পণ দেখায় যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরাধীদের আশ্রয় নেওয়া কঠিন করে তুলছে। বিষ্ণোই গ্যাং-এর মতো নেটওয়ার্কগুলো বিদেশ থেকে অপারেশন চালায়, কিন্তু এখন তাদের ফাঁদে ফেলা সম্ভব।”
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে নতুন অধ্যায়
এই প্রত্যর্পণ ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নিয়ম ভারতীয় অপরাধীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা পূর্বে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এড়ানো যেত। এতে ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলোর কাজ সহজ হবে, কিন্তু একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসনের সমস্যা বাড়তে পারে। বিষ্ণোই গ্যাং-এর মতো সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রুপগুলোর উপর ধাক্কা লাগলেও, তাদের আন্তর্জাতিক লিঙ্ক এখনও চ্যালেঞ্জ।
পাঞ্জাব এবং মহারাষ্ট্রের পুলিশের জন্য এটি একটি সুযোগ, যাতে তারা অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে পারে। তবে, অনমলের গ্রেপ্তারের পর তার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, যা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের মতো অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। এই ঘটনা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক, কিন্তু অপরাধীদের বিদেশ পলায়ন রোধে আরও কড়া আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োজন।
Read More: ভোটার এনুমারেশন (SIR) ফর্মে ছবি — বাধ্যতামূলক নাকি ঐচ্ছিক?
Anmol Bishnoi-র প্রত্যর্পণ শুধু একটি ব্যক্তির ফিরে আসা নয়, বরং ভারতের অপরাধ-বিরোধী যুদ্ধের একটি মাইলফলক। এনআইএ এবং পুলিশের হাতে এখন দায়িত্ব, যাতে এই অপরাধীরা আদালতে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হয়। জিশান সিদ্দিকের মতো শিকারের পরিবারের জন্য এটি সান্ত্বনা, কিন্তু সমগ্র সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা যে অপরাধের কোনো আশ্রয় নেই।