Notification

Bangladesh Violence: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতার ঝড়

Sahil
6 Min Read

Bangladesh Violence: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতার ঝড় ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনার ফৌজদারি রায়ের পর বাংলাদেশে প্রচণ্ড সহিংসতা ছড়িয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বোমা হামলা, আগুন লাগানো এবং সংঘর্ষে অসংখ্য আহত। ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পটভূমি থেকে বর্তমান অস্থিরতা পর্যন্ত বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞ মতামত।

ঢাকার রাস্তায় আবারও আগুনের লেলিহান শিখা, বোমার বিস্ফোরণের ধ্বনি এবং প্রতিবাদকারীদের চিৎকার। ১৭ নভেম্বর, ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর বাংলাদেশে সহিংসতার নতুন ঢেউ উঠেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে, যার ফলে শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় ১,৬৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অশান্তি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের ক্ষতচিহ্ন এখনও মিলায়নি, যেখানে প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমি থেকে শুরু করে বর্তমান সংকট, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করব।(Bangladesh Violence)

Bangladesh Violence
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতার ঝড়(Bangladesh Violence)

২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন: Bangladesh Violence

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকাল এক অমোঘ অধ্যায়। জুলাই মাসের শুরুতে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু হয় ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। এই কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত, যা অনেকের কাছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পক্ষপাতমূলক বলে মনে হয়। কিন্তু প্রতিবাদ দমনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর নির্মমতা এটিকে রক্তাক্ত করে তোলে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিভাগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত চলা এই আন্দোলনে সরকারি বাহিনী ব্যবস্থাগতভাবে প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে। প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশ গুলিতে আহত। এছাড়া হাজার হাজার আহত এবং গুমের ঘটনা ঘটেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুসারে, ১৮ জুলাই পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যা একক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। ছাত্ররা শুধু কোটার বিরুদ্ধে নয়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের দুর্নীতি, দমনমূলক নীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তুলেছিল।

আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে, ৫ আগস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান, এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই ঘটনা ‘মনসুন বিপ্লব’ নামে পরিচিত, কিন্তু এর ফলে দেশে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর লিথিয়াল অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

হাসিনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং রায়

জুন মাসে আইসিটিতে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাদের অভিযোগ ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিবাদকারীদের উপর সংগঠিত হামলা, হত্যা এবং দমন। রায়ে হাসিনাকে তিনটি দফায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়: উস্কানিমূলক বক্তব্য, হত্যার নির্দেশ এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতা। সাবেক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটররা প্রমাণ হিসেবে হাসিনার সরাসরি নির্দেশের ডকুমেন্ট উপস্থাপন করেছে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিবাদ দমনে মারাত্মক শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছে এবং ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। তবে হাসিনা এই বিচারকে রাজনৈতিক প্ররোচিত বলে দাবি করেছেন।

রায়ের পর সহিংসতার নতুন ঢেউ

রায়ের ঠিক পর থেকে দেশজুড়ে অশান্তি ছড়িয়েছে। ঢাকায় হাসিনার পিতার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ভাঙার দাবিতে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গত কয়েক দিনে ৩০টিরও বেশি ক্রুড বোমা বিস্ফোরণ এবং ২৬টি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ৩২টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যার মধ্যে গোপালগঞ্জে সরকারি অফিসে ফায়ারবম্ব নিক্ষেপ করা হয়। ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে দুটি বোমা ফেটে যায়, যদিও কোনো হতাহতের খবর নেই।

আওয়ামী লীগ ‘Strike’ ডেকে রাজপথ অবরুদ্ধ করেছে, যার ফলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে স্কুল বন্ধ এবং অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ৪০০ সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং জনসভা নিষিদ্ধ করেছে। ধানমন্ডিতে ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশকর্মীরাও রয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের একটি অফিসও আগুনে পুড়ে যায়। এই সহিংসতা নির্বাচনের পটভূমিতে আরও উত্তপ্ত, যেখানে ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ন্যায়ের সন্ধানে চ্যালেঞ্জ

এই সংকট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সোমেনেন্দু চৌধুরী বলেছেন, “মৃত্যুদণ্ড ন্যায় প্রদান করে না; এটি আরও মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিচার নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ হতে হবে, যাতে সকল অপরাধীদের ব্যক্তিগতভাবে বিচার করা যায়।” তারা আইসিটির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়েছে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ সামিয়া শরীফ বলেছেন, “রায়ের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা ফিরে এসেছে, যা টেনশন আরও বাড়াবে। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা না তুললে নির্বাচনের আগে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।” হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, “পার্টির উপর নিষেধাজ্ঞা না তুললে সহিংসতা হবে।” মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমি একটি সম্পূর্ণ ভাঙা রাজনৈতিক ব্যবস্থা পেয়েছি হাসিনার কাছ থেকে।”

এসিএলইডি (আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট)-এর বিশ্লেষক বলেছেন, “হাসিনার পতনের এক বছর পরও আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ এবং মব সহিংসতা রাজনৈতিক পরিবর্তনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”(Bangladesh Violence)

এই সহিংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। ২০২৪-এর আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু ওধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২৬১ জন মব সহিংসতায় নিহত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ৪০টিরও বেশি সুফি মাজার এবং আহমদিয়া মসজিদে হামলা হয়েছে, যা ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

নির্বাচনের পটভূমিতে এই অস্থিরতা জাতীয় একতার জন্য চ্যালেঞ্জ। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রায় নির্বাচনকে অস্থির করে তুলেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশকে এখন ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং শান্তির পথে এগোতে হবে। ইউনূস সরকারের জন্য এটি একটি কঠিন পরীক্ষা—পুরনো ক্ষত সারাতে হবে, নতুন সহিংসতা রোধ করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য শান্তি এবং গণতন্ত্রের পথই একমাত্র সমাধান। রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এই চক্র ভাঙা কঠিন। এই সংকট থেকে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতে পারবে কি? সময়ই বলবে।

Share This Article
Leave a Comment