বলিউডের জগতে প্রেমের অনেক রূপ দেখা যায়, কিন্তু কিছু প্রেমকাহিনী বন্ধুত্বের সীমা লঙ্ঘন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। Shridevi থেকে হান্সিকা মোটওয়ানি সহ ৫ অভিনেত্রীর এমন বিয়ে যা বন্ধু-পরিবারের সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে। বিস্তারিত জানুন এই এক্সক্লুসিভ নিউজে।
বলিউডের চকচকে দুনিয়ায় প্রেমের গল্পগুলো প্রায়ই স্ক্রিনের বাইরে আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। কখনো বন্ধুত্বের সুন্দর বন্ধন, কখনো তা ভেঙে পড়া—এমন অনেক কাহিনী আছে যেখানে অভিনেত্রীরা তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্বামীকে বিয়ে করে শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির গসিপ মিলকে জাগিয়ে তুলেছেন। এই নিবন্ধে আমরা ৫টি এমন প্রকৃত ঘটনা নিয়ে আলোচনা করব, যা শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে যাচাইকৃত। এগুলো শুধু প্রেমের জয়গান নয়, বন্ধুত্বের পরীক্ষা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও আয়না।
বলিউডে এমন সম্পর্কের কারণ কী? বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট ড. রামানী দুর্বাসুলা বলেছেন, “সেলিব্রিটি জীবনে চাপ এবং সামাজিক সার্কেলের সীমিততা প্রায়ই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে জটিল করে তোলে। কিন্তু এমন বিয়ে বন্ধুত্বের উপর গভীর আঘাত হানে এবং পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।” এই কাহিনীগুলো আমাদের শেখায় যে প্রেমের পথে নৈতিকতা এবং সম্মান অপরিহার্য।
১. Shridevi এবং Boni Kapoor: বন্ধুর ঘরে প্রবেশ করে প্রেমের জন্ম
বলিউডের প্রথম সুপারস্টার শ্রীদেবীর জীবন ছিল রহস্যময়, কিন্তু তাঁর বোনি কাপুরের সঙ্গে বিয়ে ছিল সেই রহস্যের চূড়ান্ত অধ্যায়। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীদেবী ছিলেন মোনা শৌরি কাপুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মোনা ছিলেন বোনির প্রথম স্ত্রী, এবং শ্রীদেবী তাঁদের ঘরে থেকে কাজ করতেন। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ (১৯৮৭) ফিল্মের সময় শ্রীদেবী এবং বোনির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

বোনি এবং মোনার বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৩ সালে, এবং তাঁদের দুই সন্তান অর্জুন এবং অনশুলা। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে সম্পর্কে ফাটল ধরে, এবং শ্রীদেবীর গর্ভাবস্থার খবর মোনাকে ধাক্কা দেয়। ১৯৯৬ সালে বোনি মোনাকে ডিভোর্স দেন এবং শ্রীদেবীকে বিয়ে করেন। তাঁদের মেয়ে জহ্নভি ১৯৯৭ সালে এবং খুশি ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
এই বিতর্কে মোনা বলেছিলেন, “শ্রীদেবী আমার বাড়িতে থাকতেন, কিন্তু তিনি আমার স্বামীকে নিয়ে নেন।” বোনি পরবর্তীকালে বলেছেন, “আমি মোনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি, কিন্তু শ্রীদেবীর প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল অপ্রতিরোধ্য।” এই সম্পর্ক বলিউডে ‘হোমরেকার’ কনট্রোভার্সির উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। শ্রীদেবীর মৃত্যুর পরও এই কাহিনী ফিল্ম ‘মিসেস’ (২০২৪) এ চিত্রিত হয়েছে।
২. আমৃতা আরোরা এবং শেকিল লাদাক: কলেজ বন্ধু থেকে বিতর্কিত বউ
মালিকা আরোরার ছোট বোন আমৃতা আরোরা বলিউডে ‘কালহো নাঁ’ এবং ‘কুইন’ ফিল্মে অভিনয় করে পরিচিত। তাঁর প্রেমকাহিনী শুরু হয় কলেজের বন্ধু নিশা রানার স্বামী শেকিল লাদাকের সঙ্গে। শেকিল এবং নিশার বিয়ে ছিল ২০০০-এর দশকে, এবং আমৃতা তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যায়, এবং ডিভোর্সের পর ২০০৯ সালে আমৃতা শেকিলকে বিয়ে করেন।

তাঁদের বিয়ে হয় মুম্বাইয়ের বাঙ্গাঙ্গা টেম্পলে, যা খ্রিস্টান, মুসলিম এবং হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হয়। শেকিলের সম্পত্তি প্রায় ৮৭ কোটি টাকা, এবং তাঁরা তিন ছেলের মা-বাবা। নিশা আমৃতাকে ‘হাউসব্রেকার’ বলে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু আমৃতা বলেছেন, “আমরা কলেজের বন্ধু ছিলাম, এবং প্রেম ঘটে গিয়েছে।” এই ঘটনা বলিউড গসিপে দীর্ঘদিন ছড়িয়ে ছিল।
ফিল্ম হিস্টোরিয়ান সুভ্র রায় গুপ্ত বলেছেন, “এমন সম্পর্ক বলিউডের সামাজিক গতিশীলতা দেখায়, যেখানে ব্যক্তিগত সুখ প্রায়ই সমাজের নিয়ম ভাঙে।” আমৃতার ক্যারিয়ার এতে প্রভাবিত হয়নি, কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষতি হয়েছে।
৩. হান্সিকা মোটওয়ানি এবং সোহেল কাথুরিয়া: বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়েতে উপস্থিতি থেকে নিজের বিয়ে
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকা হান্সিকা মোটওয়ানি ‘দেশমুদুরু’ (২০০৭) দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি ব্যবসায়ী সোহেল কাথুরিয়াকে বিয়ে করেন জয়পুরের মুন্ডোটা ফোর্টে রাজকীয় অনুষ্ঠানে। কিন্তু এই বিয়ের পিছনে বিতর্ক: সোহেল ছিলেন হান্সিকার বেস্ট ফ্রেন্ড রিঙ্কি বাজাজের স্বামী।

হান্সিকা রিঙ্কির বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু পরে সোহেল রিঙ্কিকে ডিভোর্স দিয়ে হান্সিকাকে বিয়ে করেন। এতে হান্সিকাকে ‘হোমরেকার’ বলে অভিযুক্ত করা হয়। হান্সিকা বলেছেন, “এটা সেলিব্রিটি হওয়ার মূল্য। আমি রিঙ্কির বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম না, কিন্তু গসিপ ছড়ায়।” সাম্প্রতিককালে তাঁদের সম্পর্কে ডিভোর্সের গুজব উঠেছে, কিন্তু তারা অস্বীকার করেছেন।
এই কেসটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, এবং এটি দেখায় কীভাবে সেলিব্রিটি জীবন ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রকাশ্য করে।
৪. শিল্পা শেট্টি এবং রাজ কুন্দ্রা: সামাজিক সার্কেলের প্রেম যা বিতর্ক জন্মায়
ফিটনেস আইকন শিল্পা শেট্টি ২০০৯ সালে তিনি ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাকে বিয়ে করেন খান্দালায় গ্র্যান্ড অনুষ্ঠানে। রাজের প্রথম স্ত্রী কবিতা কুন্দ্রা ছিলেন শিল্পার সামাজিক বন্ধু, এবং কবিতা অভিযোগ করেছিলেন যে শিল্পা তাঁদের বিয়ে ভেঙেছেন।

রাজ এবং কবিতার এক মেয়ে আছে, এবং ডিভোর্সের পর রাজ শিল্পাকে বিয়ে করেন। কবিতা বলেছিলেন, “শিল্পা আমাদের বিয়েকে ধ্বংস করেছেন।” শিল্পা এটি অস্বীকার করে বলেছেন, “আমরা তিন মাসের মধ্যে বিয়ে করেছি, কিন্তু প্রেম ছিল সত্যিকারের।” তাঁদের ছেলে বিআন এবং মেয়ে সমিশা। রাজের সাম্প্রতিক আর্থিক বিতর্ক সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক শক্ত।
এই কাহিনী বলিউডের ‘সেকেন্ড চান্স’ প্রেম দেখায়, কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষতি করে।
৫. রবীনা ট্যান্ডন এবং অনিল থাদানি: ফিল্মের সেট থেকে বিতর্কিত বিয়ে
৯০-এর সুপারস্টার রবীনা ট্যান্ডন ‘মোহরা’ এবং ‘খুসি’ ফিল্মে জ্বলে উঠেছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটার অনিল থাদানিকে বিয়ে করেন উদয়পুরের জগ মন্দিরে। অনিলের প্রথম স্ত্রী নাতাশা সিপ্পি (প্রডিউসার রোমু সিপ্পির মেয়ে) ছিলেন বলিউড সার্কেলের পরিচিত, এবং তাঁদের মধ্যে ‘ক্যাটফাইট’ বিখ্যাত।

২০০৩ সালে ‘স্টাম্পড’ ফিল্মের সময় রবীনা এবং অনিলের দেখা হয়, এবং অনিল নাতাশাকে ডিভোর্স দিয়ে রবীনাকে বিয়ে করেন। এক পার্টিতে রবীনা নাতাশার দিকে জুস ছুড়ে মারেন, যা গসিপে ছড়ায়। নাতাশা বলেছিলেন, “রবীনা অসুরক্ষিত।” রবীনা এবং অনিলের দুই সন্তান রাশা এবং রণবীর। রবীনা বলেছেন, “আমাদের প্রেম ছিল নিয়তির, কিন্তু বিতর্ক এড়ানো যায়নি।”
এই ৫টি কেস দেখায় যে বলিউডের প্রেম প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করে। সাইকোলজিস্ট ড. সুহা জামেশ বলেছেন, “এমন সম্পর্কে বন্ধুত্ব ভেঙে যায়, কিন্তু সেলিব্রিটিরা প্রায়ই পাবলিক ইমেজ রক্ষা করতে সক্রিয় হয়।” সমাজে এগুলো নৈতিক প্রশ্ন তোলে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে স্বীকৃতি পায়।
বলিউড ইতিহাসে এমন ঘটনা বাড়ছে, কারণ ইন্ডাস্ট্রির সামাজিক নেটওয়ার্ক সীমিত। কিন্তু এগুলো শেখায় যে প্রেমের পাশাপাশি সম্মান অপরিহার্য। আজ এই অভিনেত্রীরা সুখী, কিন্তু পথ ছিল কাঁটায় ভরা।