Notification

History of Israeli Palestinian conflict: ইসরায়েল কীভাবে ফিলিস্তিনে নিজস্ব দেশ গঠন করল এবং গত ৬০ বছরে ফিলিস্তিনিদের উপর নিপীড়নের গল্প

Sahil
5 Min Read

ভূমিকা

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত (Israeli Palestinian conflict) বিশ্বের সব অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল দ্বন্দ্ব। এই সংঘাতের শিকড় ১৯ শতকের শেষভাগে জায়নবাদী আন্দোলন (Zionism) এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে ফিরে যায়। এই নিবন্ধে আমরা ইসরায়েলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (establishment of Israel), ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি (Palestinian displacement), এবং গত ৬০ বছরে তাদের উপর নিপীড়নের (Palestinian oppression) ইতিহাস তুলে ধরব। আমাদের উদ্দেশ্য সত্যনিষ্ঠ এবং যুক্তিপূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে এই জটিল বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝানো।

Israeli Palestinian conflict
Image Created By Grok Ai

Israeli Palestinian conflict ঐতিহাসিক পটভূমি: ব্রিটিশ ম্যান্ডেট এবং বালফোর ঘোষণা

১৯১৭ সালে, ব্রিটিশ সরকার Balfour Declaration জারি করে, যেখানে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি “জাতীয় গৃহ” প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তখন ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ, যেখানে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং ইহুদি সংখ্যালঘু বাস করত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, ১৯২২ সালে লীগ অফ নেশনস ব্রিটেনকে ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেট প্রদান করে। এই সময়ে, ইহুদি অভিবাসন (Jewish immigration) বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে ইউরোপে নব্যবাদের উত্থানের কারণে। ফিলিস্তিনি আরবরা এই অভিবাসন এবং জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে, যার ফলে ১৯৩৬-১৯৩৯ সালে আরব বিদ্রোহ (Arab Revolt) সংঘটিত হয়। ব্রিটিশরা এই বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করে, যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হতাহত এবং বাস্তুচ্যুত হয়।

ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা এবং নাকবা

১৯৪৭ সালে, জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করার প্রস্তাব দেয় (UN Resolution 181): একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্র, জেরুজালেম আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইহুদি নেতারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও, ফিলিস্তিনি আরবরা এটি প্রত্যাখ্যান করে, কারণ এটি তাদের জমির বড় অংশ ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ করেছিল। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে, ইসরায়েল তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে (establishment of Israel), এবং পরদিনই পাঁচটি আরব দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে (1948 Arab-Israeli War)। যুদ্ধের শেষে, ইসরায়েল ম্যান্ডেট ফিলিস্তিনের ৭৭% অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে জেরুজালেমের একটি বড় অংশ ছিল। এই যুদ্ধে প্রায় ৭৫০,০০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়, যা ফিলিস্তিনিরা Nakba (বিপর্যয়) নামে অভিহিত করে। এই ঘটনা ফিলিস্তিনি ইতিহাসের একটি কেন্দ্রীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ এবং দখলদারিত্ব

১৯৬৭ সালে, Six-Day War-এ ইসরায়েল মিশর, জর্ডান এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং গাজা স্ট্রিপ, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে (Israeli occupation)। এই যুদ্ধে আরও ৩৫০,০০০ থেকে ৪০০,০০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। ইসরায়েল এই অঞ্চলগুলোতে বসতি (Israeli settlements) স্থাপন শুরু করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচিত হয়। এই দখলদারিত্ব ফিলিস্তিনিদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে, তাদের চলাচলের স্বাধীনতা, জমি অধিগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত করে।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ এবং ইন্তিফাদা

ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদা (First Intifada) শুরু হয়, যা ছিল বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং সহিংসতার মাধ্যমে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান। এই সময়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হতাহত হয়। ২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (Second Intifada) আরও তীব্র সংঘর্ষের সূচনা করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রতিক্রিয়ায় বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারায় এবং অবকাঠামো ধ্বংস হয়। এই প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে, তবে তাদের উপর নিপীড়ন (Palestinian oppression) আরও তীব্র হয়।

আধুনিক সময়ে ফিলিস্তিনিদের জীবন

আজও ফিলিস্তিনিরা গাজা এবং পশ্চিম তীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্মুখীন হচ্ছে। গাজা স্ট্রিপে ইসরায়েলি অবরোধ (Israeli blockade) ২০০৭ সাল থেকে চলছে, যা অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম তীরে, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বিচ্ছিন্নতা প্রাচীর ফিলিস্তিনিদের জমি এবং চলাচলের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এই নীতিগুলোকে বৈষম্যমূলক এবং নিপীড়নমূলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

শান্তি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ

১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি (Oslo Accords) শান্তির জন্য একটি আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু এটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে অবিশ্বাস, বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি অব্যাহত রেখেছে, যখন ইসরায়েল নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাও এই দ্বন্দ্ব সমাধানে সীমিত থেকেছে।

Read More Story: ইরানের বীরত্বের ইতিহাস (iran history) : একটি গৌরবময় অধ্যায়

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত (Israeli-Palestinian conflict) একটি জটিল এবং বেদনাদায়ক ইতিহাস, যেখানে ফিলিস্তিনিরা Nakba থেকে শুরু করে Israeli occupation-এর মাধ্যমে ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। তাদের বাস্তুচ্যুতি (Palestinian displacement) এবং নিপীড়ন (Palestinian oppression) বিশ্বের মানবাধিকার আলোচনায় একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। এই দ্বন্দ্বের সমাধানের জন্য সততা, সহানুভূতি এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার এবং মর্যাদা ফিরে পাবে।

Share This Article
Leave a Comment