Notification

SIR Death Controversy: আতঙ্কে প্রাণ হারালেন পরিযায়ী শ্রমিক, তৃণমূলের দাবি! অভিষেক ছুটলেন ঘটনাস্থলে

Sahil
6 Min Read

SIR Death: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তামিলনাড়ুতে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর এলাকার বাসিন্দা বিমল সাঁতরা নামে এক প্রৌঢ়। পরিবারের দাবি, রাজ্যে চালু হওয়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা SIR-এর খবর শুনে অত্যধিক চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এই মানসিক চাপই ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে SIR-এর ফলাফল হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে আক্রমণ করছে, যখন বিজেপি এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। এই বিতর্কের মাঝে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, SIR ইস্যু যত দিন গড়াবে, ততই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়বে এবং এটি আগামী নির্বাচনের প্রচারে বড় ভূমিকা নেবে।

SIR Death Controversy
SIR Death Controversy

SIR Death Controversy: অভিষেক ছুটলেন ঘটনাস্থলে

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। বিমল সাঁতরা, যিনি একজন সাধারণ কৃষি শ্রমিক, স্থানীয় এলাকায় কাজের সুযোগ কম থাকায় তামিলনাড়ুতে পাড়ি জমান। সেখানে ধান রোপণের কাজে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, মৃত্যুর পিছনে কোনও শারীরিক রোগ নয়, বরং মানসিক আঘাতই প্রধান কারণ। মৃতের ছেলে বাপি সাঁতরা বিস্তারিত বলতে গিয়ে জানান, “আমাদের এলাকায় তেমন কাজকর্ম ছিল না। তাই বাবা তামিলনাড়ুতে গিয়ে কাজ শুরু করেন। সেখানে ভালোভাবেই কাজ চলছিল। কিন্তু বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর পেয়ে বাবা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। দিনরাত এই নিয়ে ভাবতে থাকেন। এই চিন্তা থেকেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। অবশেষে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আর বাঁচানো যায়নি।”

বাপি আরও যোগ করেন যে, হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে শুরু করে মৃতদেহ রাজ্যে ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত সবকিছুতে সাহায্য করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। “আমি বিধায়ককে ফোন করে জানাই। তিনি তৎক্ষণাত্ আমাদের তামিলনাড়ু যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এমনকি বিমানে করে দেহ ফিরিয়ে আনতেও তাঁর সহযোগিতা পেয়েছি,” বলেন বাপি। এই দাবি থেকে স্পষ্ট যে, শাসকদল তৃণমূল এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে।

স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি এই ঘটনায় সরাসরি এসআইআর-কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “SIR সত্যিই একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা এর সম্পর্কে ভালো করে জানেন না, তাঁরা সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। বিমলবাবু ধানের কাজ করতেন। তামিলনাড়ুতে গিয়ে সেই কাজই করছিলেন। কিন্তু SIR-এর খবর পেয়ে তিনি এতটাই চিন্তিত হয়ে পড়েন যে, শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। এই চিন্তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ।” বিধায়কের এই বক্তব্য তৃণমূলের অফিসিয়াল লাইনকে প্রতিফলিত করছে, যেখানে SIR-কে নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিজেপি এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। জামালপুরের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল বলেন, “SIR তো নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করার একটা প্রক্রিয়া। এতে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। তৃণমূল শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঘটনাকে ব্যবহার করছে। হয়তো কাল থেকে তারা শ্মশানে বসে প্রত্যেক মৃত্যুকে SIR-এর সঙ্গে জুড়ে দেবে। কিন্তু সত্যি কথা হল, মৃত ব্যক্তির হয়তো কোনও পুরনো শারীরিক সমস্যা ছিল। SIR-এর সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।” বিজেপির এই প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায়, তারা SIR-কে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে এবং তৃণমূলের অভিযোগকে প্রচারমূলক বলে খারিজ করছে।

এই বিতর্কের মাঝে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি ইতিমধ্যে জামালপুরের দিকে রওনা দিয়েছেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। এটি তৃণমূলের কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যাতে SIR-এর বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সহানুভূতি জাগানো যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, SIR প্রক্রিয়া রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হয়েছে, কিন্তু এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব হারিয়ে যাবে, যদিও কর্তৃপক্ষ বারবার বলছে এটি শুধু তালিকা পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া।

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের দুঃখ নয়, বরং রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনযাত্রার একটা ছবি তুলে ধরছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে যান। তাঁদের জীবনে অনিশ্চয়তা, দূরত্ব এবং এখন রাজনৈতিক ইস্যু যোগ হয়ে আরও জটিলতা বাড়াচ্ছে। তৃণমূল এই ঘটনাকে ব্যবহার করে বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রের নীতিকে আক্রমণ করছে, বলছে SIR বাংলার মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। বিজেপি অবশ্য বলছে, এটি ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের অংশ এবং কোনও নাগরিকের অধিকার খর্ব করবে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন যদি আরও কোনও মৃত্যু বা অসুস্থতার খবর আসে, তাহলে দুই দলের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হবে। তৃণমূল এটাকে ‘মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ বলে প্রচার করবে, যখন বিজেপি এটাকে ‘জাতীয় স্বার্থের প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখাবে। এই বিতর্ক না শুধু পূর্ব বর্ধমানে সীমাবদ্ধ থাকবে, বরং গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন আরও সতর্ক হয়ে উঠছে, এবং সরকারি সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

Read More: বাংলায় Special Intensive Revision (SIR), সঙ্গে আরও ১১ রাজ্য! ‘ভোটার’ হওয়ার মাপকাঠি কী? কবে প্রকাশ হবে চূড়ান্ত তালিকা?

সার্বিকভাবে, বিমল সাঁতরার মৃত্যু একটা দুঃখজনক ঘটনা, কিন্তু এর পিছনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এটাকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভিষেকের সফর এই ইস্যুকে আরও উত্তপ্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে SIR কীভাবে এগোবে এবং এর প্রভাব কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমানোর জন্য উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

Share This Article
Leave a Comment