এই কবিতা পুরাতন “উলঙ্গ রাজা” কবিতার সারমর্ম ধরে রেখে আজকের ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্দশাকে তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরে, সেই সঙ্গে একটি নির্ভয় ভবিষ্যতের আহ্বান জানায়

রাজা আজও উলঙ্গ, সিংহাসনে বসে,
চারিদিকে স্তুতি, তবু সত্য কোথায় হাসে?
হাততালির গর্জন, মিথ্যের মহোৎসব,
দেশের বুকে আজ শুধু ভয় আর রব।
লুঠের মেলা চলে, ধনী আরো ধনী,
গরিবের কান্না ঢাকে সরকারি বেণী।
প্রশ্ন করলে কণ্ঠে শিকল, জেলের ছায়া,
মুখ বন্ধ করো, নয়তো হবে দায়া।
আমার ধর্ম পুছে, আমার ধর্ম ধোঁয়া,
মানুষের রক্তে আজ রঙিন এই খোয়া।
নেতার বুলি মধুর, কিন্তু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি,
জনতার স্বপ্ন আজ পোড়ে অবিরতি।
সবাই দেখছে, রাজা উলঙ্গ, তবু চুপ,
কেউ ভয়ে, কেউ লোভে, কেউ বিকিয়ে রুপ।
মিডিয়ার কলম আজ ক্ষমতার দাস,
সত্যের শিশু কোথায়? কে দেবে উচ্চ হাস?
কোথায় সেই শিশু, যে বলবে নির্ভয়ে,
“রাজা, তোর কাপড় কোথায়, কোন খোয়ে?”
তাকে কি গুম করেছে রাতের অন্ধকার?
নাকি সে হারিয়েছে, ভয়ের এই বাজার?
দেশ জেগে ওঠো, শিশুটিকে খোঁজো,
সত্যের গলা আজ আবার তুলে ধরো।
উলঙ্গ রাজার মুখোশ খসাও একবার,
নির্ভয়ে বলো, “এবার সত্যের সংসার।”