কলকাতা (বিজেপির স্ট্যাম্প): মঙ্গলবার দমদম বিমানবন্দরে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে রওনা হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক তোপ দাগলেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। Mamata Banerjee স্পষ্ট বললেন, “ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে।” কারণ? Election Commission of India-এর একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প! ছ’বছর আগের ওই নথি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র যে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে।
মমতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে ওই ছবি দেখিয়ে বলেন, “ভালো করে দেখুন। নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে BJP-এর স্ট্যাম্প। এটা clerical mistake? নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?” তাঁর কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত— Election Commission কার কথায় চলছে, তা এখন আর লুকোনো যাচ্ছে না। West Bengal Assembly Elections 2026-এর আগে এমন অভিযোগ যে কতটা গুরুতর, তা বুঝতে কোনও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সাহায্য লাগে না। কারণ ভোটার তালিকা স্বচ্ছতা ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প দেখে ক্ষেপে গেলেন মমতা!
এরপরই মমতা মধ্যরাতে ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সোমবার রাতে হঠাৎ করে supplementary voter list (SIR) প্রকাশ করা হল কেন? তিনি বলেন, “বিচারকেরা ছ’দিন আগে কাজ শেষ করে দিয়েছিলেন। তাহলে তালিকা বার করতে এত ভয় কেন? স্বচ্ছতা নেই বলেই কি মধ্যরাতে প্রকাশ? আর প্রকাশের পরও দুপুর পর্যন্ত বুথে বুথে তালিকা টাঙানো হল না কেন?” Mamata Banerjee-এর এই প্রশ্নগুলো একেবারে যৌক্তিক। কারণ ভোটার তালিকা প্রকাশের নিয়ম হল সকলের জন্য সহজলভ্য করা, যাতে কেউ অভিযোগ জানাতে পারে। মধ্যরাতে প্রকাশ করে তারপর দেরি করলে সন্দেহ তো স্বাভাবিক।
কমিশনের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, ছ’বছর আগের ওই স্ট্যাম্পের ঘটনা শুধু clerical mistake। কিন্তু মমতা তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, “এটা clerical mistake না, রাজনৈতিক চক্রান্ত। নন্দীগ্রামের বিডিও ভবানীপুরে চলে আসছে কারণ গদ্দারের পছন্দের লোক বলে।” তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে যে, Election Commission of India-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে প্রশ্ন জাগছে। BJP-এর প্রভাবে কমিশন কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠছে, আর এটা প্রথমবার নয়। আগেও অনেকবার তৃণমূল এমন দাবি করেছে।
লজিক্যালি দেখলে, ভোটের আগে voter list-এর স্বচ্ছতা সবচেয়ে বড় ইস্যু। West Bengal Voter List 2026 যদি সন্দেহের ঊর্ধ্বে না থাকে, তাহলে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। মমতা সব রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন— এই অনিয়মের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়ান। তাঁর যুক্তি সহজ: “ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে কারা এসব করাচ্ছে।”
এই ঘটনা শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, এটা গণতন্ত্রের মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন। Election Commission-এর মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সবার উপরে রাখতে হয়। কিন্তু যদি BJP stamp-এর মতো ছোটখাটো ভুলও বারবার ঘটে, আর তার সঙ্গে midnight voter list publication-এর মতো অদ্ভুত সময় নির্বাচন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তোপ নিশ্চয়ই কমিশনকে ভাবিয়ে তুলবে।
Read More News: Stay On Weblipsbangla.in
উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করার আগে মমতার এই আক্রমণ দেখিয়ে দিল যে, তৃণমূল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কোনও অনিয়ম মেনে নেবে না। সাধারণ ভোটারদের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট— ভোটার তালিকা স্বচ্ছ রাখুন, নইলে প্রশ্ন উঠবেই। এখন দেখার বিষয়, কমিশন কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং voter list-এর প্রকাশ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করে তোলে।