ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল Nandigram BDO Surajit Roy কে? Suvendu Adhikari ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে Trinamool Congress সরাসরি Election Commission এ চিঠি দিয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর আগে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের আসন ভবানীপুরে Bhabanipur election এ রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল। দলের অভিযোগ ছিল, সুরজিৎ রায় Suvendu Adhikari এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন এবং এতে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি নিশানা করেন। তারপরই তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, সুরজিৎ রায় (WBCS ২০১১ ব্যাচ) নন্দীগ্রাম-২ এর বিডিও হিসেবে থাকাকালীন Suvendu Adhikari এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা সবাই জানে। তাই Bhabanipur Returning Officer পদে তাঁর থাকা উচিত নয়। দল চেয়েছিল, তাঁকে সব নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও জ্যেষ্ঠ কোনো অফিসারকে নিয়োগ করা হোক।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র অনুসারে, কমিশন রাজ্যকে তিনটি বিকল্প নাম পাঠাতে বলেছে Bhabanipur Returning Officer পদের জন্য। অর্থাৎ সুরজিৎ রায়কে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূল কংগ্রেস স্বস্তি প্রকাশ করেছে, কারণ তারা মনে করে এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? ভবানীপুর কেন্দ্রটা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন নয়, এটা রাজ্য রাজনীতির প্রেস্টিজ ফাইট। বিজেপির সুভেন্দু অধিকারী এখানে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তাই West Bengal Assembly Election 2026 এর আগে কোনো অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তৃণমূলের যুক্তি ছিল, একজন অফিসার যদি কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হন, তাহলে তাঁর উপর নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়। এতে ভোটারদের আস্থা নষ্ট হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দেয় যে তারা কোনো অভিযোগকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। কমিশন চায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে। সুরজিৎ রায়ের বর্তমান পদ অতিরিক্ত ভূমি রেকর্ডস ডিরেক্টর হলেও তাঁর সিনিয়রিটি অনুযায়ী এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী দায়িত্বে কোনো রকম সংশয় থাকলে তা দূর করাই যুক্তিযুক্ত।
এই ঘটনা থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট— Trinamool Congress complaint এবং Election Commission এর দ্রুত সাড়া দেওয়া দেখিয়ে দিল যে নির্বাচনী স্বচ্ছতা রক্ষায় সব পক্ষই সতর্ক। ভবানীপুরের মতো হাই প্রোফাইল আসনে কোনো রকম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেদিকে সবার নজর রাখা দরকার।
নির্বাচন কমিশন এখন নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করবে। তৃণমূল চেয়েছে জ্যেষ্ঠ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কাউকে। সাধারণ মানুষও চায় একই— যাতে ভোটের ফলাফল কোনো বিতর্কে আটকে না যায়। Bhabanipur Returning Officer বদলের এই সিদ্ধান্ত West Bengal Assembly Election 2026 এর আগে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন অফিসার কে আসেন এবং তিনি কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজ্যের রাজনীতিতে এমন ছোট ছোট সিদ্ধান্তই বড় প্রভাব ফেলে। তৃণমূলের দাবি মেনে কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার চেষ্টা চলছে।